সাইফুল ইসলাম:: গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনগণই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। আর সেই ক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগ ঘটে ভোটের মাধ্যমে। ভোট শুধুমাত্র একটি অধিকার নয়; এটি নাগরিকের দায়িত্ব, অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম হাতিয়ার। তাই নির্বাচন এলেই প্রশ্ন ওঠে ভোট কেন দেব? আর কাকে দেব?
প্রথমত, ভোট দেওয়া সাংবিধানিক অধিকার। দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে এই অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নাগরিকরা যদি ভোটদানে অনীহা দেখান, তবে গণতন্ত্রের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। ভোটার উপস্থিতি যত কমে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব তত সীমিত হয়ে যায়।
দ্বিতীয়ত, ভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব অর্পিত হয় নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে। সংসদ সদস্য, মেয়র বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আইন প্রণয়ন, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখেন। সুতরাং ভোট দেওয়া মানে নিজের এলাকার উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অংশ নেওয়া।
তৃতীয়ত, সচেতন ভোট জবাবদিহিতা নিশ্চিত করে। জনগণ যদি বিবেচনা করে ভোট দেন, তবে জনপ্রতিনিধিরা জানেন যে তাদের কর্মকাণ্ড মূল্যায়িত হবে। এতে দায়িত্বশীলতা বাড়ে, সুশাসনের পথ সুগম হয়।
তবে কাকে ভোট দেওয়া উচিত-এই প্রশ্নের উত্তর আরও গুরুত্বপূর্ণ। ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় আবেগ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা সাময়িক প্রলোভনের চেয়ে প্রার্থীর সততা, যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। যিনি দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তির অধিকারী, এলাকার সমস্যা সম্পর্কে অবগত এবং বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে সক্ষম; তিনিই ভোটের উপযুক্ত দাবিদার। পাশাপাশি প্রার্থীর অতীত কর্মকাণ্ড, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও জনকল্যাণে সম্পৃক্ততা বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
গণতন্ত্র টিকে থাকে নাগরিকের অংশগ্রহণের উপর। ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া মানে কেবল একটি প্রতীকে সিল মারা নয়; এটি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি, উন্নয়নধারা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পথচলা নির্ধারণের অংশগ্রহণ।
অতএব, ভোট হোক সচেতনতার, দায়িত্ববোধের এবং বিবেকের সিদ্ধান্ত। সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও শক্তিশালী রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তুলতে।
লেখক: সাইফুল ইসলাম, বার্তা সম্পাদক, মধুপুরবার্তা২৪
আপনার মতামত দিন
পাঠকের মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি।